আইপিওর টাকা নিয়ে জালিয়াতিতে মেতেছে কোম্পানিগুলো

ipoনিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও)র মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে জালিয়াতিতে মেতেছে কোম্পানিগুলো। ভিন্ন খাতে এই টাকা ব্যবহার করে কোম্পানির পরিচালকরা মুনাফা করছেন। ফলে বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের কিছুই দিচ্ছে না। সম্প্রতি গনমাধ্যমে আইপিওর টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো যাচাই না করে নামসর্বস্ব কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। নিজেদের সক্ষমতা না থাকায় আইপিওর টাকা ব্যবহার করতে পারে না। অনেক সময় কোম্পানিগুলো মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইপিও আবেদন করে। বিএসইসিকে এজন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আরগন ডেনিমস ২০১২ সালে কোম্পানি সম্প্রসারণের কথা বলে ১০৫ কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করে। পরে কোম্পানিটি ওয়ান ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মেয়াদি ঋণ পরিশোধ করেছে ওই টাকা দিয়ে।এ ছাড়া লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ৩ কোটি টাকা শোধ করে। কোম্পানিটি বিএসইসির অনুমোদিত পদ্ধতি ছাড়া ২৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

এ ছাড়া সালভো কেমিক্যাল ২০১১ সালে শেয়ারবাজার থেকে ২৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে। উত্তোলিত টাকা দিয়ে কোম্পানির মেশিনারিজ কেনাসহ সম্প্রসারণের কাজে ব্যয়ের তথ্য দিয়ে টাকা উত্তোলন করে। টাকা উত্তোলনের পর প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের মতো ব্যয় করে বিএসইসিতে খরচের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ পেয়েছে।

আইপিও টাকার দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করার কথা থাকলেও কোম্পানিগুলো এসব টাকা দিয়ে পরিচালকদের নামে এফডিআর করারও অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ অপরাধে বিএসইসি একটি কোম্পানিটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে।

সূত্র থেকে জানা যায়, শাহজিবাজার পাওয়ার, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, জেএমআই সিরিঞ্জ, গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিগুলোর পরিচালকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যয় করছেন। সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ করে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

বিনিয়োগকারীরা জানান, বাজারে ক্ষুদ্র পেইডআপের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠান বাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যার প্রমাণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আইপিওর টাকা খরচ করতে না পারা। কিছু কিছু কোম্পানি টাকা উত্তোলন করে পরে ভিন্ন খাতে ব্যয় করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করছে। প্লেসমেন্ট শেয়ারও বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন তারা।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, ছোট ছোট অনেক কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, এদের অনেক তথ্যই মিথ্যা। শেয়ারবাজারে এসে এরা জালিয়াতি করছে। এর প্রমাণ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত এসব প্রতিষ্ঠান যেন বাজারে তালিকাভুক্ত না হতে পারে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এলকে/সি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *