দেউলিয়া বীমার গ্রাহকদের আর্থিক সুবিধার উদ্যোগ

insurence-smbdস্টকমার্কেট ডেস্ক:

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার শঙ্কা প্রকাশ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার বীমা গ্রহীতা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গ্রাহক সুরক্ষা তহবিল-সংক্রান্ত একটি খসড়া এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে আইডিআরএ, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।নতুন এ আইন অনুযায়ী বীমা খাতের প্রতিটি কোম্পানির একটি নিজস্ব ফান্ড থাকবে, যেখানে মোট প্রিমিয়ামের ওপর নির্ধারিত হারে অর্থ জমা করবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এতে করে কোনো কারণে কোম্পানি দেউলিয়া হলেও কিছু অর্থ সহায়তা পাবেন এর গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীরা।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ সদস্য কুদ্দুস খান বলেন, ‘বিদেশে এ ধরনের ফান্ড গঠন করা হয়। শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও বীমার গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে এ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। খসড়া আইনটি এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্য দিয়েই বড় হচ্ছে দেশের বীমা খাত। তীব্র প্রতিযোগিতার এ বাজারেই একের পর এক নতুন বীমা কোম্পানির অনুমোদন দিচ্ছে সরকার। বর্তমান সরকার তিন দফায় মোট ১৬টি বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয়। সর্বশেষ অনুমোদন দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশনকে (এলআইসি)। তবে কোম্পানির সংখ্যা বাড়লেও শক্ত হয়নি অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নতুন কিছু কোম্পানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পুরনো অনেক দুর্বল কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় গ্রাহক সুরক্ষা ফান্ড গঠন করা হলে তাহলে তা অবশ্যই খাতটির জন্য ইতিবাচক হবে।’

জানা গেছে, দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কারণে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও পুরনো ১১টি কোম্পানি এখনো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। এসব কোম্পানির বীমা গ্রহীতারাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। কারণ প্রতি বছরই কোম্পানিগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পলিসি তামাদি হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকরাও কোনো বোনাস পাচ্ছেন না।

তালিকাভুক্তিতে পরিশোধিত মূলধন ও টানা মুনাফার শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিটি পুরনো কোম্পানিগুলোকে এখন প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা হারে জরিমানা গুনতে হচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকার বাইরে থাকা এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ১৫-২০ বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এখনো তাদের আর্থিক ভিত শক্তিশালী হয়নি।

এছাড়া আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে শুধু বাধ্যবাধকতার কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে বেশ কিছু বীমা কোম্পানি। এদের মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স,সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স অন্যতম। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময় এসব কোম্পানির নানা অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে এসেছে।

এর মধ্যে বিধিবহির্ভূতভাবে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে বিনিয়োগ না করা, অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ, বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ ক্রয়, কম হারে প্রিমিয়াম নেয়া, রাজস্ব ফাঁকি অন্যতম।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা নাসির এ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে জানান, আমাদের দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য বিষয়টি নতুন হলেও বিদেশে এ ধরনের ফান্ড গঠন করা হয়। তবে ফান্ডটি পরিচালনার বিষয়ে আইডিআরএর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্বল কোম্পানিগুলোকে একীভূতকরণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। আমাদের আইনে এ ধরনের নির্দেশনাও আছে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এনএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *