‘বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় আসেনি’

dse-smbdনিজস্ব প্রতিবেদক :

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট শেয়ারবাজার বান্ধব। এবারে বাজারের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেট বক্তৃতায় এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসেনি, যা বাজারের জন্য জরুরী। বিশেষ করে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে পাঁচ বছর শতভাগ কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া উচিত। এ সুবিধা দিলে শেয়ারবাজারে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা।

ডিএসইতে আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, পরিচালক শাকিল রিজভী, খাঁজা গোলাম রসূল, শরীফ আনোয়ার হোসেন ও চিফ রেগুলেটর অফিসার (সিআরও) জিয়াউল হাসান খানসহ অন্যান্য ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বপন কুমার বালা বলেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন জাতীয় সংসদের গত অধিবেশনে উপস্থাপিত হলেও এখনো আইনটি পাস হয়নি। আইনটি পাস হওয়া এবং তার অধীনে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন ও বাস্তবায়ন পুঁজিবাজারে তথ্য সরবরাহে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, এছাড়া প্রস্তাবিত অর্থবিলে অসত্য আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ১২৯বি ধারার অধীনে করদাতাকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ডের বিধান করা হয়েছে। আর ১৬৫এ ধারার অধীনে কমপক্ষে ৩ মাস ও সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা জেল-জরিমানা দুটোই হতে পারে। ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিংয়ের মান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, স্ট্যাম্প ডিউটি যা প্রতিদান মূল্যের ১.৫% হারে প্রয়োজ্য সকল অ-জড় সিকিউরিটির ক্ষেত্রে বাদ দেয়ার প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা ( বর্তমানে এটি অ-জড় তালিকাভুক্ত শেয়ার অব্য্যাহতি আছে।)। বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের দ্বিতীয় একটি বাঁধা হল ৫৩বিবিবি ধারার অধীনে ট্রেকহোল্ডারদের লেনদেন ভিত্তিক ০.০৫ শতাংশ হারের উৎসে কর। এটিও উৎসে কর্তন থেকে বাদ দিয়ে অ্যাসেসমেন্ট ভিত্তিক আরোপিত হওয়া দরকার।

তিনি আরো বলেন, শেয়ারবাজারের স্বার্থে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ বা এর বেশি লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আয়কর রেয়াত বহাল রাখা। তালিকাভুক্ত ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কোম্পানির হ্রাসকৃত করহার পেতে পূর্বে কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার এবং ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার একটি শর্ত ছিল, যা এখন তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৬ই ধারা অনুসারে, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানি ব্যতীত অন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ না দিলে অবন্টিত মুনাফার উপর ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য “সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথ রচনা” শিরোনামে বাজেট পেশ করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন। এবারে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুগোপযোগী বাজেট পেশ করা হয়েছে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *