বাজেট ও শেয়ারবাজার : বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

Budget 2015-16নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য বেশ কয়েকটি ইতিবাচক প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজার বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

‘এবারের বাজেট শেয়ারবাজারবান্ধব হয়েছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অনেক চাওয়া পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। তিনি বলেন তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ৪২ দশমিক ৫ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণায় বাজারে গতি ফিরে আসবে বলেন আশা প্রকাশ করেন  বলে মনে করেন ফারুক আহমেদ।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাবেক এ প্রধান আরো বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের বাজার কিছুটা খারাপ। করপোরেট করহার কমে এলে ব্যাংকের কর-পরবর্তী মুনাফার ওপর এর প্রভাব পড়বে। এতে লভ্যাংশও বাড়তে পারে। তবে বেশির ভাগ মার্চেন্ট ব্যাংক এখন আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থানে আছে। ব্যাংকের মতো মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানো হলে ভালো হতো। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট শেয়ারবাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।’

অন্যদিকে সিডিবিএল ও প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজার গতিশীল হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে বীমা খাতের জন্য বিআইএর পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে যার প্রতিফলন নেই। যদিও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ব্যাংকের পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোও বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই শেয়ারবাজারসহ সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতের জন্য সরকারের তরফ থেকে কিছু প্রণোদনা জরুরি।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন ‘শুধু শেয়ারবাজার নয়, সার্বিকভাবেই ব্যবসাবান্ধব হয়েছে এবারের বাজেট। বেশি সংখ্যক কোম্পানি যাতে বাজারে আসতে পারে, সেদিকে নজর দিয়েছে সরকার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিল্পায়ন শেয়ারবাজারনির্ভর হলেও আমাদের দেশে তা ব্যাংকনির্ভর। তবে এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বাজেটে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বাজেটে বিশেষ কোনো প্রণোদনা না থাকাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না তিনি।

এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘সাধারণত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ভালো লভ্যাংশ দেয়। তাই এখন যে ভালো লভ্যাংশ দেবে, সে-ই প্রণোদনা পাবে। তাই সবকিছু বিবেচনায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও প্রণোদনার বাইরে নেই।’

‘মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর করপোরেট করহার না কমলেও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটকে শেয়ারবাজারের জন্য ‘বিশেষ কিছু’ বলাই যায়। বাজারের উন্নয়নে বেশকিছু প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা ডিন, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তিনি আরো বলেন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা ২০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা, ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির করহার কমিয়ে আনা, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মূলধনি মুনাফার ওপর আরোপিত উেস কর কর্তনের দায়িত্ব থেকে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে অব্যাহতি দেয়া। সরকারের এসব সিদ্ধান্ত দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি। এছাড়া আইপিওতে ২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়লে ওই কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বছরের করপোরেট করের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াতের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাজারে নতুন কোম্পানি আকৃষ্ট করবে। এতে বাজারের গভীরতা বাড়বে।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক আবু আহমেদ জানান, বাজেটে শেয়ারবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থমন্ত্রী বেশকিছু ইতিবাচক প্রস্তাব করেছেন, যা শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনবে। এছাড়া করপোরেট কর কমায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফার পাশাপাশি তাদের লভ্যাংশও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন ‘তবে বর্তমানে বাজারের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার। এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দিতে হবে, যা এবারের বাজেটে একদম অনুপস্থিত।’

আবু আহমেদ বলেন, এবারের বাজেট প্রস্তাবে সব সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির করহার সমান করা হয়েছে। এটি উচিত হয়নি। তালিকাভুক্তিতে বাড়তি কোনো সুবিধা না থাকলে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে অতালিকাভুক্ত তামাক কোম্পানিগুলো।এছাড়া মোবাইল কোম্পানিগুলোর জন্যও বাজেটে বিশেষ কোনো প্রণোদনা নেই।

এছাড়া আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়লে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট বছরের প্রযোজ্য আয়করের ওপর যে ১০ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছে, তা কয়েক বছরের জন্য দেয়া উচিত বলে মনে করেন আবু আহমেদ।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএজে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *