বিকল্প বিনিয়োগ আইনের খসড়া, জনমত যাচাইয়ে দুই সপ্তাহ

bsecনিজস্ব প্রতিবেদক:

বিকল্প বিনিয়োগ-২০১৫ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ২ জুন বিএসইসি’র ৫৪৬তম কমিশন সভায় এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জনমত যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে বিকল্প বিনিয়োগ আইন ২০১৫-এর খসড়া সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদেরকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের মতামত, উপদেশ বা অভিযোগ বিএসইসিকে জানাতে বলা হয়েছে।

কমিশনের কাছে জনমত যাচাইয়ের সুপারিশমালা গ্রহণযোগ্য মনে হলে খসড়ায় প্রয়োজনীয় সংযোজনী আনা হবে, নতুবা কোন সংযোজনী ছাড়াই চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বিকল্প বিনিয়োগ আইন ২০১৫-এর খসড়ায়, বিনিয়োগকারীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- নিবন্ধিত বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারের দেশীয় প্রতিষ্ঠান বা দেশে ও বিদেশে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা দেশীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানি বা মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক ডিলার বা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা অন্য কোনো ফান্ড ম্যানেজার দ্বারা পরিচালিত বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা নিবন্ধিত পেনশন ফান্ড বা নিবন্ধিত প্রভিডেন্ট ফান্ড বা নিবন্ধিত ট্রাস্ট ফান্ড বা নিবন্ধিত সুপার এনোয়েশন ফান্ড (এক ধরনের পেনশন ফান্ড) বা বিদেশি ফান্ড বা বিদেশি নাগরিক বা উচ্চ উপার্জনশীল নাগরিক বা প্রবাসী বাংলাদেশি যারা যে কোনো ধরনের বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ডে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য রিটার্ন সম্পর্কে অবগত।

এছাড়া ফান্ড ম্যানেজারদেরকে এ ফান্ড পরিচালনার জন্য বিএসইসি’র কাছ থেকে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কেউ ফান্ড পরিচালনায় অংশ নিতে পারবে না। ফান্ড ম্যানেজারদের নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা এবং ফি প্রদানে ব্যর্থ হলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, সাধারণ ফান্ড বা ইসলামী ফান্ড দুইভাবেই পরিচালনা করা যাবে। বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ডের আকার ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা হতে হবে এবং ফান্ডের শুরুতে স্পন্সরকে ফান্ডের মোট আকারের ন্যূনতম ১০ শতাংশ ধারণ করতে হবে। বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ডের অর্থ আইপিও ব্যতীত শুধুমাত্র প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। একজন বিনিয়োগকারীকে ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার ফান্ডের ইউনিট ক্রয় করতে হবে এবং সর্বোচ্চ ২০০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে। তাছাড়া তহবিলের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে।

তবে কোনো কারণে অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা না গেলে ফান্ডের বাকি অর্থ মানি মার্কেটে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যাবে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও অন্য তহবিল ব্যবস্থাপক দ্বারা পরিচালিত বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ডে তহবিলের বাকি ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। তবে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো একক কোম্পানিতে ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। শুধুমাত্র ইক্যুইটিতে এসব ফান্ড বিনিয়োগ করা যাবে।

কোনো ধরনের ঋণপত্রে এ ধরনের তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। তাছাড়া এ ফান্ড কোনো অবস্থায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে না। এমনকি এ ধরনের ফান্ড কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োজিত থাকলে সেই কোম্পানি দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন জানাতে পারবে না। প্রতিটি ফান্ডের মেয়াদকাল নির্ধারিত হবে ৫ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে। ফান্ড গঠনের সময় এর মেয়াদ নির্দিষ্ট করতে হবে। তাছাড়া বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ড শুধুমাত্র তাদের ইউনিট হোল্ডারদের কাছে ডিক্লেরেশন প্রদান করবে এবং শুধু ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করতে পারবে। সেই সঙ্গে ফান্ডের বিনিয়োগ ইউনিট ইস্যুর তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য লক থাকবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন সান্নামাত বলেন, এতদিন এ ধরনের ফান্ড গঠনে কোনো বিধি-বিধান ছিল না। এখন একটি বিধিমালা করার কারণে এ ধরনের ফান্ড গঠনের কার্যক্রম সুচারুভাবে করা সম্ভব হবে। এ ধরনের ফান্ডের অর্থ আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে না। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে করতে হবে। এ ফান্ডের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ সংগ্রহ করলে তাকে বিএসইসি’র বিভিন্ন বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আগে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে তেমন বিধি-বিধান না থাকায় এ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন বিধিমালা প্রণয়ন করার ফলে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিকল্প বিনিয়োগ আইন ২০১৫-এর খসড়ার উপরে জনমত যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে সংবাদপত্রে আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে বিএসইসি’র কাছে মতামত প্রদান করতে হবে। কমিশন জনমত যাচাইয়ের সুপারিশসমূহ গ্রহণযোগ্য মনে করলে প্রয়োজনীয় সংযোজনী সাপেক্ষে আইনটি চূড়ান্ত করবে। এ ফান্ড শেয়ারবাজারে কি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেÑ এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ ফান্ড শেয়ারবাজারের বৈচিত্র্যতা আনয়নের সঙ্গে সঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এম/এএআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *