শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রভাব

dolerনিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রভাব পড়ছে। কোনো মাসে বিদেশি বিনিয়োগ বেশি হলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। আবার বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেলে বাজারেও তার প্রভাব দেখা যায়। গত এক বছরের বাজার বিশ্লেষণে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। পাশাপাশি বাজারেও নিম্নগতি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ওই সময় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কম ছিল। অন্যদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বেশি থাকায় ওই সময়ে বাজারও ভালো ছিল। লেনদেনেও গতি ছিল। তাই বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা বিদেশি বিনিয়োগ দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

বাজার-বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গড়ে প্রতিদিন ২৭৮ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে। এ সময়ে ডিএসইতে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা। এ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৩৬৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। আর বিক্রি করেছেন ১৩৬ কোটি টাকার শেয়ার। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০২ কোটি টাকার শেয়ার কেনা-বেচা করেছেন তারা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩১ কোটি টাকা। এ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৫০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিক্রি করেছেন ২১৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৪৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনা-বেচা করেছেন তারা।

ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে গড়ে প্রতিদিন ২৬৮ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি ওই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৮৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়। আর মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রির পরিমাণ বেশি ছিল। এ মাসে ৩২ কোটি টাকার অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করেছেন তাঁরা। এমনকি গত এপ্রিলেও ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগ ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে ডিএসইর কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি।

অন্যদিকে, এক বছরের মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। সেপ্টেম্বরে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর ওই মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়। সেপ্টেম্বরে ডিএসইতে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ৪২৬ কোটি টাকা। ওই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৫৮৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিক্রি করেছেন ১৬৩ কোটি টাকার।

আবার অক্টোবরে ডিএসইতে গড়ে প্রতিদিন ৭৫০ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৫০৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিক্রি করেছেন ২৯৯ কোটি টাকার। ওই মাসে প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ২০৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এম এ হাফিজ বলেন, নতুন বিনিয়োগ বাজারে গতি সঞ্চার করে। এটা বিদেশি হোক বা দেশি হোক। বাজারে নতুন টাকা ঢুকলে বাজারে গতি আসবে। বর্তমানে বাজারে অভ্যন্তরীণ ফান্ড ঢুকছে না। যে কারণে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগও আসছে না। কেননা প্রথমে দেশি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই বিদেশিরাও উৎসাহিত হবেন।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এম/এইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *