হামিদ ফেব্রিকসের আইপিও ড্র আগামীকাল

hamid-fabrics-ltdনিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি হামিদ ফেব্রিকসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) লটারীর ড্র আগামীকাল ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ১০ টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে এ ড্র হবে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কোম্পানিতে নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় ৯ গুণ আবেদন জমা পড়েছে। কোম্পানিটি ৩ কোটি শেয়ার ইস্যুর জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। তার বিপরীতে ২৬ কোটি ৪২ হাজার শেয়ারের সমপরিমাণ আবেদন জমা জমা পড়েছে।

হামিদ ফেব্রিকস আইপিওতে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাথে ২৫ টাকা নিচ্ছে কোম্পানিটি। আইপিওতে শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ৩৫ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কিন্তু এর বিপরীতে জমা পড়েছে ৯২৫ কোটি টাকার আবেদন।

জানা গেছে, অনিবাসী বাংলাদেশীরা প্রায় ৫০ কোটি টাকার শেয়ারের জন্য আবেদন করেছেন। বাকীটা করেছেন দেশী বিনিয়োগকারীরা, যার মধ্যে ব্যক্তি বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকের মাধ্যমে জমা পড়েছে ৭৩৫ কোটি টাকার আবেদন। আর বাকী টাকার আবেদন জমা হয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ট্রেকহোল্ডারের মাধ্যমে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কোম্পানির আইপিওর আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়। চলে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সুযোগ ছিল ১১ অক্টোবর পর্যন্ত।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এআর

পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন বিনিয়োগকারীরা

investনিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদ-পরবর্তীতে বিভিন্ন শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে নিলেও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে আয় কেমন হবে, তা নিয়ে সতর্ক রয়েছেন তারা। আসন্ন তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাবনায় এরই মধ্যে ব্যাংক ও বীমা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এছাড়া জুন হিসাব বছর শেষ হওয়া জ্বালানি খাতের কোম্পানিতেও লেনদেন বাড়তে দেখা গেছে। এ কারণে গত সপ্তাহে মূল্য সংশোধনের প্রভাব থাকলেও বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বাড়াতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে ১০টি কোম্পানি। এ সময় সূচকটি ৫৯৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে ১০ কোম্পানি। উক্ত তিন মাসে বড় মূলধনি কোম্পানি লাফার্জ সুরমার দর প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ডিএসই ব্রড ইনডেক্সে প্রায় ১৪০ পয়েন্ট যোগ হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণফোন ৭২ পয়েন্ট ও বেক্সিমকো ফার্মা ৫৯ পয়েন্ট যোগ করেছে সূচকে।

এছাড়া বিএটিবিসি, এমজেএল বিডি, বেক্সিমকো লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল, এসিআই, স্কয়ার ফার্মা ও ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স সূচক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। লেনদেনেও এসব কোম্পানির একচেটিয়া প্রাধান্য লক্ষ করা গেছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৫৮ শতাংশ এসেছে এসব কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার। এ সময় ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০ শতাংশের বেশি হয়েছে এ কোম্পানিতে। এছাড়া ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এমজেএল বিডি ও ৮ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে গ্রামীণফোন রয়েছে পরবর্তী অবস্থানে।

গত সপ্তাহের বাজারচিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে টানা দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। এর ফলে লাফার্জ সুরমা, গ্রামীণফোন, এসিআই লিমিটেড, এমজেএল বিডি, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীরগতিতে পড়েছে।

বিপরীতে দীর্ঘদিন সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা ব্যাংক, বীমা, জ্বালানি ও মিউচুয়াল ফান্ডে চাহিদা বেড়েছে। এরই মধ্যে ডেসকোর লভ্যাংশ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে পুরো জ্বালানি খাতে। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ট্যানারি খাতের বাজার মূলধন। বাটা সু ও এপেক্স ফুটওয়্যারের দরবৃদ্ধিতে পুরো খাতটির বাজার মূলধন ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় সাধারণত লেনদেনের পরিমাণ কমে গেলেও গত সপ্তাহে তা ছিল অপরিবর্তিত। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৯৬২ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৯৫৯ কোটি টাকা। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩০০ কোটি টাকা।

স্টকমার্কেটবিডি/এম