পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা চলতি সপ্তাহে

icb-2নিজস্ব প্রতিবেদক :

ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় গঠিত বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ চলতি সপ্তাহে হাতে পাবে বলে আশা করছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশেন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। ৯শ’ কোটি টাকা সহায়তা তহবিলের মধ্যে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ শেষে হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আর অর্থ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিবি তা ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে বিতরণ করবে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে তহবিল তদারককারীদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে আইসিবি। গত ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান।

চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ জুন ২০১৪ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে মোট ২৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বিপরীতে আদায়কৃত সুদাসলের ৫২ কোটি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দিয়েছে আইসিবি। এছাড়া ব্যাংক স্থিতির ওপর সুদ বাবদ দেয়া হয়েছে আরও ১৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাহিদা থাকলেও সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছিল। ঋণ সুবিধা পেতে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তহবিল তদারকি কমিটি অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানালেও অর্থ মন্ত্রণালয়ে তা আটকে যায়।

আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ তহবিল থেকে ঋণ সহায়তা পেতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে আরও ১৭২ কোটি টাকার আবেদন জমা রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুনঃঅর্থায়ন সহায়তা তহবিলের সুফল ভোগ করছেন ১০ হাজার ৫৬৮ জন বিনিয়োগকারী। মাত্র ৯ শতাংশ সুদে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের ক্ষতিগ্রস্ত এ গ্রাহকদের অনুকূলে ২৯৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার ঋণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা আরও সিকিউরিটিজ কিনতে কাজে লাগিয়েছেন তারা।

এতে বিনিয়োগকারীদের সামর্থ্য যেমন বেড়েছে, তেমনি বাজারে তারল্য ও চাহিদা বেড়েছে। গত ১২ জুন পর্যন্ত মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠান পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে মোট ৪৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের আবেদন জানায়। এর মধ্যে ২০টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ২২টি ব্রোকারেজ হাউজ রয়েছে, যাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৩২২। সে সময় পর্যন্ত মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ৩৫৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ঋণ আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে, যার সিংহভাগই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তি থেকে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান বলেন, আমরা সহায়তা তহবিলের অর্থ ছাড়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকেও বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে আমরা ৩শ’ কোটি টাকা হাতে পাব।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ/এলকে

সপ্তাহে ডিএসইতে বেড়েছে সূচক ও লেনদেন

DSE-UP-4400-728x387নিজস্ব প্রতিবেদক :

সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮৩৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার।

গত সপ্তাহে লেনদেনের মধ্যে ৮০ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির, ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির ছিল ৩ দশমিক ২২ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির ছিল ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির ছিল ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এসময় ডিএসই প্রধান সূচক বেড়েছে ২৭ পয়েন্ট, ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ১১ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৮ পয়েন্ট।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টি কোম্পানির শেয়ারের দর। আর লেনদেন হয়নি ৪টি কোম্পানির শেয়ার।

অন্যদিকে সিএসইতে আলোচিত সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১০২ কোটি ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার শেয়ার। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১১১ কোটি ১৯ লাখ ২৭ হাজার টাকার শেয়ার। সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে লেনদেন কমেছে ৮ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

লেনদেন কমলেও বেড়েছে সব ধরনের সূচক। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১১২ পয়েন্ট। আর সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ৫৮ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫ টির, কমেছে ১১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ/এলকে

বস্ত্র খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে

textileস্টকমার্কেট ডেস্ক :

নতুন বছরে দর কমার ধারা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। বস্ত্র খাতের কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বেড়েছে এসব শেয়ারের লেনদেনও। গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে বস্ত্র খাতের শেয়ার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের শেয়ারই ছিল ৪১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের দিনও ডিএসইর শীর্ষ লেনেদেন তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত।

গত দুদিনে বস্ত্র খাতের মোট লেনদেনে সম্প্রতি ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়া অলটেক্সের একটি বড় অবদান ছিল। ডিএসইতে গতকালই লোকসানি কোম্পানিটির মোট ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এছাড়া হামিদ ফ্যাব্রিকস, আলহাজ টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস ও তুংহাই নিটিংয়ের শেয়ারেরও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারের দর কম থাকার পাশাপাশি রফতানি আদেশ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করছে।
স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ/এএআর

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষে লাফার্জ সুরমা

 

lafarzস্টকমার্কেট ডেস্ক :

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের সব কার্যদিবসেই লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড। অন্তর্বর্তী লভ্যাংশের কারণে বড় মূলধনি কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।

২০০৩ সালে শেয়ারবাজারে একমাত্র গ্রিনফিল্ড হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট এর আগে কোনো হিসাব বছরের জন্যই শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটি অন্তর্বর্তীকালীন ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে। গেল বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মুনাফা থেকে এ লভ্যাংশ দেয়া হচ্ছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানা হয়েছে।

এদিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত লাফার্জ সুরমার ৮৩৩ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে ২১০ কোটি ৮৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮২ পয়সায়।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ/এএআর

শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ তদারকি শিথিল

bbনিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ পরিস্থিতির তদারকি ব্যবস্থা আংশিক শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরিস্থিতি দৈনিক ভিত্তিতে তদারকি করা হতো। এখন তদারকি করা হবে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে। শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে ৭টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হকসহ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, ডিপার্টমেন্ট অব কো-অপারেটিভ, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (এমআরএ) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আগে দৈনিক তদারকি করা হতো। এখন থেকে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে তদারকি করা হবে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে সমন্বিতভাবে তদারকি করতে পারে তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ দৈনিক ভিত্তিতে তদারকি করার পর থেকে শেয়ারবাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমে যায়। ফলে বাজারে শেয়ারের দরও কমতে থাকে। একই সঙ্গে কমতে থাকে শেয়ার বেচাকেনার পরিমাণ।

সূত্র জানায়, প্রতি দুই মাস পর পর শেয়ারবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাতটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বৈঠক করে বাজার তদারকির বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বৈঠকের শুরু থেকেই এসইসির চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি শিথিল করার প্রস্তাব দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এম/এএআর