ডিএসইতে সপ্তাহের লেনদেন কম ৪.৪২ শতাংশ

dseনিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪.৪২ শতাংশ। এরফলে গত সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সপ্তাহশেষে গড় লেনদেন হয়েছে ৪১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর আগের লেনদেন কমেছিল ২৭ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩ সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের শুরুতে শেয়ারবাজারে লেনদেনে গতির সঞ্চার ঘটেছি । বছরের প্রথম সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছিল ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ১৫.৮৮ শতাংশ লেনদেন বেড়ে ডিএসইর গড় লেনদেন ছাড়িয়ে যায় ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু এরপর লেনদেনে উল্টোপথে হাঁটতে শুরু করে বাজার। চলতি বছরের তৃতীয় সপ্তাহে ৬.৪৬ শতাংশ লেনদেন কমার পর চতুর্থ সপ্তাহে তা আরও ২৭ শতাংশ কমে যায়। ফলে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০০ কোটি টাকার গড় লেনদেন থেকে তা ৪০০ কোটি টাকার ঘরে চলে আসে। গত সপ্তাহে তা আরও নিচে নেমে এসেছে।

গত সপ্তাহে (জানুয়ারি ৩১ থেকে ফেব্রুয়ারি ৪) ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪.৪২ শতাংশ।

গত সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৯১.৮ শতাংশ হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২.৭৬ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪.৩২ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১.১২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।

লেনদেন কমলেও সূচকের মিশ্রাবস্থায় শেষ হয়েছে গত সপ্তাহের বাজার। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) কমলেও আগের সপ্তাহের তুলনায় ডিএস ৩০ সূচক ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক সামান্য বেড়েছে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় বাজার মূলধন ও পিই রেশিও কমেছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগেরই দর কমেছে। ৯৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বাড়লেও কমেছে ২২১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির দর।

বেশির ভাগ কোম্পানির দর কমলেও ডিএসই ব্রড ইনডেক্সের সামান্য পতন হয়েছে। সপ্তাহশেষে ডিএসইর এ সূচকটি কমেছে ২.৪৭ পয়েন্ট। সূচক কমার এ হার ০.০৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৮৪.৩৬ পয়েন্ট।

অপরদিকে ডিএস৩০ সূচক ১৩.৫৭ পয়েন্ট বেড়ে সপ্তাহশেষে ১৭৪২.৭৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫.৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১১০৮.৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। সপ্তাহশেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকায়। বাজার মূলধন কমার এ হার ০.১৪ শতাংশ।

এছাড়া আগের সপ্তাহের তুলনায় ০.১৪ শতাংশ কমে মূল্য-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৫.২৯-তে। সপ্তাহের শুরুতে এর পরিমাণ ছিল ১৫.৩১।

সপ্তাহশেষে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে স্কয়ার ফার্মা। এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৪.০৯ শতাংশই লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানির। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এলকে

ইউরোপের শেয়ারবাজার থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা নিবে সরকার

londonস্টকমার্কেট ডেস্ক :

ইউরোপের বড় শেয়ারবাজার লন্ডন স্টক মার্কেটে টাকা-বন্ড ছেড়ে যে এক বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার তার সবটাই বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগে আনতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্ডের মাধ্যমে ডলারে এই অর্থ সংগ্রহ করা হলেও বেসরকারি খাত যাতে সহজে ঋণ নিতে পারে সে জন্য টাকায় রূপান্তর করা হবে সম্পূর্ণ অর্থ। যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে।

তবে সংগ্রহ করা অর্থ টাকায় বাজারে ছাড়ার পর যাতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ না পড়ে সে জন্য সমপরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রের তহবিল থেকে আলাদা করে রাখা হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট থেকে আইএফসির মাধ্যমে যে এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার জন্য সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে।

এই টাকা-বন্ড লন্ডন স্টক মার্কেটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়া হবে উল্লেখ করে সচিব জানান, ডলার দিয়ে যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট করে তা বিনিয়োগ করা হবে। এই অর্থ সংগ্রহে সরকারকে কোনো জামানত দিতে হবে না উল্লেখ করে সচিব বলেন, আমাদের হাতে প্রচুর রিজার্ভ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত অর্থ বাজারে ছাড়ার পর যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে না যায় সে জন্য সমপরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখা হবে।

এই ঋণ নিতে বেসরকারি খাতের সুদের হার কত হবে— প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এই টাকা-বন্ডে যারা বিনিয়োগ করবেন তাদের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ হবে। এর ওপর সার্ভিস চার্জ ধরে সহনীয় সুদেই বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে যৌথভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলেও জানান সচিব।

গত বছর এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের বসন্তকালীন আলোচনায় আসে ১ বিলিয়ন ডলারের টাকা-বন্ড ইস্যুর বিষয়টি। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন আইএফসির প্রধান নির্বাহী জিন ইয়ং কাইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও বন্ড ইস্যু করবে আইএফসি।

ওই সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যে কেউ এ টাকা-বন্ড কিনতে পারবেন। এই বন্ড প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে। বিদেশের ব্যাংকে টাকা রাখলে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। কিন্তু টাকা-বন্ডে চার থেকে পাঁচ শতাংশ সুদ থাকবে। প্রবাসীরা সঞ্চয় ব্যাংকে না রেখে টাকা-বন্ডে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যরাও এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে, সংস্থাটির প্রস্তাবের প্রায় ৬ মাস পর সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, আইএফসির মাধ্যমে বিশ্ববাজার থেকে ১ বিলিয়ন ডলার তোলার। এরপর গত অক্টোবরে পেরুর রাজধানী লিমায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ১ বিলিয়ন ডলারের টাকা-বন্ড ছাড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এখন আইএফসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় বসে একটি কাঠামো ঠিক করে দ্রুত এই বন্ড ছাড়া হবে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এলকে