সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ২.০৬% কম

dseনিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের শেয়ারাবাজারের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন কমেছে। পাশাপাশি বাজার মূলধন কমেছে ২.০৬ শতাংশ। মোট লেনদেন বাড়লেও কমেছে গড় লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য-আয় অনুপাত। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণও কমেছে। সে সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। সপ্তাহশেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায়। বাজার মূলধন কমার এ হার ২.০৬ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ০২ শতাংশ।

গত সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৪৪৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে এর পরিমাণ ছিল ৪৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ হিসাবে গড় লেনদেন কমেছে।

এ সপ্তাহে মোট লেনদেনের ৯৫.৩৩ শতাংশ হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে। এছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরির ২.০১ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্তর ১.৯৩ শতাংশ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্তর ০.৭৪ শতাংশ লেনদেন কোম্পানির হয়েছে।

গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে ডিএসইএক্সের ৯৪.৭৩ পয়েন্ট কমে নেমে আসে ৪৪৭২.৮৪ পয়েন্টে। অপরদিকে ডিএস৩০ সূচক ৩৪.৫২ পয়েন্ট কমে ১৭১৮.৬৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৮.৮৬ পয়েন্ট কমে ১০৮৬.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বাড়লেও কমেছে ২৩১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর।

এছাড়া আগের সপ্তাহের তুলনায় ২.০৬ শতাংশ কমে মূল্য-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৪.৯৬-তে। সপ্তাহের শুরুতে এর পরিমাণ ছিল ১৫.২৭।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ/এলকে

ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসইতে রাজস্ব আদায় কম

taxনিজস্ব প্রতিবেদক :

ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে। আলোচ্য সময়ে এর আগের মাস জানুয়ারি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। মুলত, গত মাসে লেনদেনে ভাটা থাকায় রাজস্ব আদায় কমেছে বলে মনে করছেন ডিএসই’র কর্মকর্তারা। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে ডিএসই থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এর আগের মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ডিএসই থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রাজস্ব আদায় কমেছে ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ।

জানা যায়, ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। সে তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায় কমেছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বা ৩১ শতাংশ।

এদিকে, উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগের মাস জানুয়ারিতে ডিএসই উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ১৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সে হিসেবে এ খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে ২ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বা ৯৪ শতাংশ।

উল্লেখ্য, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪, ধারা ৫৩ এর আওতায় ডিএসই জানুয়ারি মাসে সদস্য ব্রোকারেজ হাউজের কাছ থেকে এই রাজস্ব আদায় করেছে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ/এলকে

বিএসইসি এবার সতর্ক করল ডিএসইর চেয়ারম্যান-এমডিকে

dse bsecনিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ারবাজারের প্রচলিত আইন ও কর্মসূচির (স্কিম) ব্যত্যয় ঘটিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) আইন ও কর্মসূচির আলোকে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দিয়েছে। এদিনই এ-সংক্রান্ত সতর্কপত্র ডিএসইতে পাঠানো হয়েছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোন আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও কর্মসূচি প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।

এর আগে ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও কর্মসূচি যথাযথভাবে পরিপালন না হওয়ায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যানকে সতর্ক করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে সংস্থাটির এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিএসইসি। সিএসইর পর চিঠির মাধ্যমে ডিএসইর চেয়ারম্যান ও এমডিকেও সতর্ক করা হয়।

বিএসইসির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিএসইর একজন মহাব্যবস্থাপকের চাকরিচ্যুতিসহ ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন কাজে পরিচালনা পর্ষদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএসইসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত করেনি। তা সত্ত্বেও অনানুষ্ঠানিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ অবস্থায় এ ধরনের বিচ্যুতির ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

নাম প্রকাশে বিএসইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ও কর্মসূচিতে পরিচালনা পর্ষদের কাজ ও ব্যবস্থাপনার কাজ সুনির্দিষ্ট করা আছে। কারও কাজে যাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সে জন্য এটি করা হয়েছে। তারপরও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে পরিচালনা পর্ষদের কারও কারও হস্তক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা অপ্রত্যাশিত।

এর আগে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ্বের জের ধরে সিএসইর সাবেক এমডি ওয়ালি উল মারুফ মতিন পদত্যাগ করেন। সেই পদত্যাগের সূত্র ধরে বিএসইসি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে। তাতে ব্যবস্থাপনার কাজে পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব ও হস্তক্ষেপের প্রমাণ পায়। এ কারণে সংস্থাটিকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে সংস্থাটির প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) আহমেদ দাউদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিএসইসি।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ/এলকে