স্বচ্ছতা বাড়াতে ইপিএস ও ন্যাভ প্রকাশ করবে বীমা কোম্পানি

idr-smbdনিজস্ব প্রতিবেদক :

বীমা আইন, ২০১০-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করে বীমা কোম্পানিগুলো। যেখানে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), সম্পদ মূল্যসহ অন্যান্য আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত কোনো তথ্যই থাকে না। তবে এসব বিষয় প্রকাশে নীতিমালা তৈরির জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) একটি কমিটি গঠন করেছে।

সম্প্রতি জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রস্তাব দেয় আইডিআরএ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জীবন বীমা কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্যাদি প্রকাশের জন্য সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার পর তা সব জীবন বীমা কোম্পানি/করপোরেশরনের বার্ষিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষ হতে বিধি মোতাবেক নির্দেশনা জারি করা হবে।

আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ, একচ্যুয়ারির সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএর সদস্য কুদ্দুস খান, জুবের আহমেদ খাঁন এবং সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন। এছাড়া সব জীবন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি কর্তৃক নিযুক্ত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত দুজন প্রতিনিধিও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো অনিরীক্ষিত ও নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে টার্নওভার, পরিচালন আয়-ব্যয়, কর-পরবর্তী মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয়, শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্যসহ বিভিন্ন আর্থিক নির্দেশক তথ্য প্রকাশ করে থাকে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিনিয়োগকারীরা কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জীবন বীমা কোম্পানিগুলো। স্টক এক্সচেঞ্জে জীবন বীমা কোম্পানির প্রোফাইলে কোম্পানির আয়, ব্যয়, ইপিএস, এনএভিপিএস-সংক্রান্ত কোনো তথ্যই থাকে না। এ ধরনের কোম্পানি শুধু তাদের তহবিলের পরিমাণ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে থাকে। আর বিনিয়োগকারীরাও আয়-ব্যয়ের কোনো তথ্য না জেনেই জীবন বীমা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে থাকেন। এ অবস্থায় কোম্পানির আর্থিক নির্দেশক তথ্য প্রকাশের উদ্যোগে স্বচ্ছতা প্রকাশ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য সম্প্রতি জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আইডিআরএর বৈঠকে বার্ষিক প্রতিবেদনে আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সহমত প্রকাশ করেন। এছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ বীমা কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি সর্বসাধারণের কাছে কোম্পানির আর্থিক চিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠবে বলে মত প্রকাশ করেন সভায় উপস্থিত জীবন বীমা কোম্পানির কর্মকর্তারা।

সভায় সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন জানান, আমাদের দেশের বীমা কোম্পানিগুলো এখনো ১৯৩৮-এর বিধান অনুযায়ী বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। তবে এরই মধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশে ১৯৩৮-এর বিধান অনুসরণপূর্বক আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমাদেরও বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, একেকটি বীমা কোম্পানি ভিন্ন ভিন্নভাবে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। এভাবে না করে একটি ইউনিফর্মে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। বার্ষিক প্রতিবেদনে তথ্যাদি প্রকাশের জন্য সব জীবন বীমা কোম্পানিকে আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনে আর্থিক নির্দেশক-সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করলে একনজরে কোম্পানির চিত্র উঠে আসবে। ফলে কোম্পানির পলিসিহোল্ডার, শেয়ারহোল্ডার, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সবাই উল্লিখিত কোম্পানির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হবে।

এম শেফাক আহমেদ বলেন, পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুরনো লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনেক বেশি। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো লাগামহীনভাবে ব্যবস্থাপনা ব্যয় করছে। আবার জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়লেও রিনিউয়াল খুব কম আসছে। পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে এবং পূর্বের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অর্থ সমন্বয় করতে কর্তৃপক্ষ ২০১২ সাল থেকে জীবন বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে একাধিকবার সভা করেছে। কিন্তু জীবন বীমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগাম টানছে না। জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ২০১৫-এর বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর জুলাই, ২০১৬ থেকে কর্তৃপক্ষ সব জীবন বীমা কোম্পানি/করপোরেশনের সঙ্গে সভা করবে এবং বীমা শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে থাকবে।

বর্তমানে দেশে বীমা কোম্পানি রয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৪৭টি, যার ১১টিই জীবন বীমা কোম্পানি।

স্টকমার্কেটবিডি.কম