সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে অধিকাংশ শেয়ারের দর

DSE_CSE-smbdনিজস্ব প্রতিবেদক :

সপ্তাহেব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানি ও ফান্ডের শেয়ারের দর বেড়েছে। এসময় সব ধরনের মূল্য সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। আলোচ্য সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ঢাকা স্টক একচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। আর লেনদেন হয়নি ৩টি কোম্পানির শেয়ার।

আলোচ্য সপ্তাহে ৫ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আর এর আগের সপ্তাহে ৬ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিলো। আলোচ্য সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার।

আর এর আগের সপ্তাহে ৫ কার্যদিবস ধরলে হয় ২ হাজার ৮০০ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সেই হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর ৬ কার্যদিবস ধরলে হয় ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। কারণ ৬ কার্যদিবসে ৩ হাজার ৩৬০ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিলো।

সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ।

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ৬১ শতাংশ বা ২৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। অপরদিকে, শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৫২ পয়েন্টে।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচঞ্জে (সিএসই) ৫ কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে ১৬৫ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার। তবে সার্বিক সূচক বেড়েছে দশমিক ৫৮ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৮১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৯টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ

পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১০ পয়েন্ট

peনিজস্ব প্রতিবেদক :

সর্বশেষ সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় পিই রেশিও বেড়েছে দশমিক ১০ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৩ শতাংশ । ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৫ দশমিক ২২ পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৫ দশমিক ১২ পয়েন্ট।

সপ্তাহ শেষে খাতভিত্তিক ট্রেইলিং পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৭.২ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৭.৭ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ২০.৯ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৭.৮ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২৭.৬ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৪ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১১.৩ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৩৮.৮ পয়েন্টে।

এছাড়া পাট খাতের মাইনাস ২৬.৬ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ২৮.২ পয়েন্টে, এনবিএফআই খাতে ২১.২ পয়েন্ট, কাগজ খাতের ২৫.৫ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৩ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ২২.৭ পয়েন্টে, চামড়া খাতের ২০.৫ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৯.৩ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ১২.৮ পয়েন্টে এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ১৯.১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ভারত

indexনিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সাথে শেয়ারবাজার বিকাশে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ভারত। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে ভারত। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সতর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুম্বাইয়ে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল মুম্বাইয়ে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এ সময় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রাইসেস এ্যান্ড মানিটারি রিসার্চ বিভাগের পরিচালক গুনজিত কর ভারতের ব্যাংাকিং ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে গুনজিত কর বলেন, পুনেতে ব্যাংক ইনস্টিটিউট রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের জন্য এসে থাকেন। আমরা এ বিষয়ে আরও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গুনজিত কর বলেন, গণমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে অবহিত হয়েছি। ভারত অবশ্য এখনও এই ধরনের সমস্যায় পড়েনি। বাংলাদেশের ওই ঘটনার পরে আমরা অনেক সতর্ক। সকল দেশেরই ব্যাংকিং খাতে সাইবার সিকিউরিটি বৃদ্ধিতে জোর দেয়া প্রয়োজন। অবশ্য আমাদের (ভারতের) প্রযুক্তিবিদরা এখন সাইবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভারতের বেসরকারী ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগে কোন রাজনৈতিক চাপ থাকে না। সার্চ কমিটিই ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ করে থাকে। পরিচালনা বোর্ড পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। আমরা শুধু বিষয়গুলো মনিটরিং করে থাকি। বিভিন্ন সময়ে পরামর্শও দেই।

এদিকে মুম্বাইয়ের সিকিউরিটিজ অব এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (এসইবিআই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) তারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের এসইবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুম্বাইয়ে সফররত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তারা।

এসইবিআইয়ের আজীবন সদস্য এস রমণ সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজার পরিচালনায় প্রতিটি দেশের সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জকে দক্ষ হতে হয়। কেননা দক্ষভাবে শেয়ারবাজার পরিচালনা না করলে এখানকার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ভারতের এসইবিআই প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দক্ষ। এখানে বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে এসে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেছেন। আমরা বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আরও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে এস রমণ বলেন, অনেকেই না বুঝে শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আবার অনেকেই লোকমুখে শুনে শুনে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করে থাকেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বুঝে শুনে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করাটাও স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এস রমণ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একই ঐতিহ্য-সংস্কৃতি বহন করে চলেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন তৈরি হয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট পরিচালনায় দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ভারত। এ সময় এসবিআইয়ের চীফ জেনারেল ম্যানেজার অমরজিৎ সিং ও এন হরিহরণ প্রমুখ কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ