আর্থিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার নতুন প্রধান নিয়োগ ট্রাম্পের

(JPEG Image, 199 × 253 pixels)স্টকমার্কেট ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্থিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার নতুন প্রধান হিসেবে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক মাইক মুলভানিকে নিয়োগ দিয়েছেন। খবর এএফপি’র।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন স্থায়ী প্রধানের নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মুলভানি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি ২০১৪ সালে এক সাক্ষাতকারে কনজুমার ফিনানসিয়াল ব্যুরোকে (সিএফপিবি) একটি ‘দূর্বল’ সংস্থা হিসেবে অভিহিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প আর্থিক সংকট মোকাবেলায় দেশের আর্থিক বিধিমালার সমালোচনা করে আসছেন।

সিএফপিবি’র প্রথম পরিচালক রিচার্ড কর্দ্রে গত সপ্তাহে জানান, তিনি এ মাসের শেষের দিকে পদত্যাগ করবেন। এ পদে তার মেয়াদ আরো কয়েক মাস বাকি থাকতেই তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ

রবি আজিয়াটার আয় বাড়লেও লোকসান ৪৬ কোটি টাকা

robiস্টকমার্কেট ডেস্ক :

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপারেটরটির আয় ছিল ১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের চেয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে আয় ৭০ কোটি টাকা বেড়েছে। তবে আয় বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে রবি লোকসান করেছে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

রবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপারেটরটির গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১২ লাখ। এ সময়ে অপারেটরটিতে নতুন করে ১৬ লাখ গ্রাহক যোগ হয়েছে। এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার খরচ ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বেশি বিনিয়োগের কারণে মূলত এ প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। আলোচ্য সময়ে নেটওয়ার্ক উন্নয়নে রবির খরচ হয়েছে ৩৪০ কোটি টাকা।

সার্বিকভাবে লোকসান হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রান্তিকে রবির আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে ভয়েস কল থেকে ৩২ শতাংশ ও ইন্টারনেট ডেটা থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ আয় বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির। আয় বাড়লেও এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রবির মোট লোকসান হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। টুজি ও থ্রিজি মিলিয়ে গত জুন পর্যন্ত রবির টাওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজারের বেশি, এর মধ্যে থ্রিজি টাওয়ার আছে ৮ হাজার ৫০০।

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের পর দেশের প্রতিটি স্থানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করেছে রবি। এতে গত ছয় মাসে রবির সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে রবি সরকারের কোষাগারে ৬৭০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে, যা তাদের মোট আয়ের ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি প্রান্তিকের ৩৪০ কোটি টাকাসহ রবি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে ১৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এমএ

বেড়েছে সাপ্তাহিক লেনদেন, সূচক ও শেয়ার দর

DSE_CSE-smbdস্টকমার্কেট প্রতিনিধি :

সর্বশেষ সপ্তাহে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে প্রধান প্রধান সূচক বেড়েছে। টাকার পরিমাণে লেনদেনও আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে এবং হাত বদল হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরও বেড়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৪ হাজার ৯৭৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিলো ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৮ টাকার।

এ সময় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক সপ্তাহে ৪০.৪২ পয়েন্ট বা ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৩২২ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ১৮.০১ পয়েন্ট বা ১.৩১ শতাংশ বেড়ে ১৩৯৩ পয়েন্টে দাড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ সূচক ২.২৯ পয়েন্ট বা ০.১০ শতাংশ কমে দাড়িয়েছে ২২৭৭ পয়েন্টে।

আর সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশগ্রহণ করেছে ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮টির, কমেছে ১৩৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির দর।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৪ পয়েন্ট বা ০.৬৩ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষে দাড়িয়েছে ১৯৫৬৯ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসসিএক্স ৭৫ পয়েন্ট বা ০.৬৩ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ৫ পয়েন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ৫৮ পয়েন্ট বা ০.৩৩ শতাংশ এবং সিএসআই ১৪ পয়েন্ট বা ১.১৫ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষে দাড়িয়েছে যথাক্রমে ১১৮৪৪, ১৪৮৭, ১৭৬০০ ও ১২৬৩ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে হাত বদল হওয়ার ২৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ১১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির দর।

আর সিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে ৩১৫ কোটি ৭৮ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৮ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিলো ৩০৭ কোটি ৭ লাখ ৭২ হাজার ৪৯১ টাকার।

স্টকমমার্কেটবিডি.কম/শুভ/এমএ

কারসাজি করে বাড়ানো হচ্ছে লোকসানী ৫ কোম্পানির শেয়ার দর

low profit-smbdস্টকমার্কেট প্রতিনিধি :

কারখানা বন্ধ কিংবা উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকায় লোকসান গুনছে শেয়ারবাজারের বেশকিছু কোম্পানি। বছরের পর বছর লোকসানে থাকায় পুঞ্জিভূত লোকসান এখন মূলধনের ৬০ গুণ। কিন্তু তবুও লাগামহীন তালিকাভুক্ত ৫ কোম্পানির শেয়ার দর।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকসানে থাকলেও কোম্পানিগুলোর শেয়ার সংখ্যা সামান্য হওয়ায় কারসাজিতে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র। যার ধারাবাহিকতায় শেয়ার দর বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে শেয়ার দর বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করে বিনিয়োগকারীদের জানানো উচিত।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, পুঞ্জিভূত লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মধ্যে সম্প্রতি রেকর্ড দর অতিক্রম করেছে ৫টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো-শ্যামপুর সুগার, সাভার রিফ্যাক্টরিজ, জিলবাংলা সুগার, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও জুট স্পিনার্স লিমিটেড।

শ্যামপুর সুগার মিলস :

মূলধনের প্রায় ৬০ গুণ পুঞ্জিভূত লোকসান থাকলেও টানা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর। গত এক যুগেও ব্যবসায়িক মুনাফায় ফিরতে না পারলেও বৃহস্পতিবার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে স্থিতি পেয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই কোম্পানিটির শেয়ার ৩৯ টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে। যা বিগত দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড দর।

লোকসানে থাকায় ৩০ জুন, ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। সমাপ্ত হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৬৫.৭৫ টাকা। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৬৫৯.৫৫ টাকা (নেগেটিভ) ও শেয়ার প্রতি কার্যকরি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৭৪.৬৯ টাকা (নেগেটিভ)।

এদিকে, প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৭.৬৪ টাকা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৬.১৫ টাকা। এছাড়া শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৬৭৭.১৯ টাকা (নেগেটিভ) ও শেয়ার প্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১৭.২৮ টাকা (নেগেটিভ)।

সাভার রিফ্যাক্টরিজ লিমিটেড :

১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূলধনধারী সাভার রিফ্যাক্টরিজের পুঞ্জিভূত লোকসান ৫২ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের (২০১৭-১৮) প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.২১ টাকা। এদিকে, সদ্য সমাপ্ত বছরে (২০১৬-১৭) শেয়ার প্রতি ০.১৭ টাকা লোকসান হওয়ায় ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। কিন্তু তবুও বাড়ছে শেয়ার দর।
বৃহস্পতিবার ৯.২৭ শতাংশ দর বেড়ে ১৬৯.৮০ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। যা বিগত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেড :

১৬ কোটি টাকা মূলধনধারী মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের পুঞ্জিভূত লোকসান ৬২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গত একযুগেও মুনাফার মুখ দেখেনি কোম্পানিটি। তবুও টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে শেয়ার দর।১ বছরের ব্যবধানে ৬.৩০ টাকায় থাকা শেয়ারটি এখন লেনদেন হচ্ছে ১৯.৫০ টাকা। যদিও সম্প্রতি ২১.৫০ টাকায় লেনদেন হয়েছিল শেয়ার।

বৃহস্পতিবার ৫.৫২ শতাংশ দর বেড়ে ১৯.১০ টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে কোম্পানিটির শেয়ার। এসময় ৫৩ হাজার ৫৯০টি শেয়ার লেনদেন হতে দেখা গেছে।

জিল বাংলা সুগার মিলস :

৬ কোটি টাকা মূলধনধারী জিলবাংলা সুগারের পুঞ্জিভূত লোকসান ২৩৭ কোটি ২ লাখ টাকা। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিটি ব্যবসায়িক লোকসানে রয়েছে একযুগেরও বেশি সময় যাবত। কিন্তু সম্প্রতি অব্যাহত উত্থানে রয়েছে শেয়ার দর। ১৩ নভেম্বর জিলবাংলা সুগারের শেয়ার দর ছিল ৫৬.৩ টাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার তা ৭২.৮ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ এসময় দর বেড়েছে ২৯.৩০ শতাংশ।

এদিকে, চলতি হিসাব বছরের (২০১৭-১৮) প্রথম প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৫.৬২ টাকা।

জুট স্পিনার্স লিমিটেড :

১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূলধনধারী জুট স্পিনার্সের পুঞ্জিভূত লোকসান ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪৯.৩৯ টাকা। কিন্তু টানা উত্থানে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৬২.৭২ শতাংশ।

গত ৮ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৭৬.২ টাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর ১২৪ টাকায় স্থিতি পেয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কোম্পানির ব্যবসায়িক দুরাবস্থায় বছরের পর বছর ডিভিডেন্ড না দিতে পারলেও শেয়ার দর বাড়ছে, বিষয়টা সন্দেহজনক। এ ধরণের লোকসানি কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কারসাজি চক্রের সক্রিয়তা থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ কোম্পানিগুলোর অধিকাংশের মূলধন ও শেয়ার সামান্য। যার সুফল ভোগ করছে কারসাজি চক্র। শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় বাজারে বিক্রয় উপযোগী শেয়ারও কম থাকে। তাই একটি গ্রুপ ধীরে ধীরে শেয়ার ক্রয় করে শেয়ারের সংকট সৃষ্টি করে কারসাজির সূচনা করে।

স্টকমমার্কেটবিডি.কম/শুভ/এমএ