ইউরোপের শেয়ারবাজার থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা নিবে সরকার

londonস্টকমার্কেট ডেস্ক :

ইউরোপের বড় শেয়ারবাজার লন্ডন স্টক মার্কেটে টাকা-বন্ড ছেড়ে যে এক বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার তার সবটাই বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগে আনতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্ডের মাধ্যমে ডলারে এই অর্থ সংগ্রহ করা হলেও বেসরকারি খাত যাতে সহজে ঋণ নিতে পারে সে জন্য টাকায় রূপান্তর করা হবে সম্পূর্ণ অর্থ। যে পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে তা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে।

তবে সংগ্রহ করা অর্থ টাকায় বাজারে ছাড়ার পর যাতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ না পড়ে সে জন্য সমপরিমাণ অর্থ রাষ্ট্রের তহবিল থেকে আলাদা করে রাখা হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট থেকে আইএফসির মাধ্যমে যে এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করার জন্য সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে।

এই টাকা-বন্ড লন্ডন স্টক মার্কেটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়া হবে উল্লেখ করে সচিব জানান, ডলার দিয়ে যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট করে তা বিনিয়োগ করা হবে। এই অর্থ সংগ্রহে সরকারকে কোনো জামানত দিতে হবে না উল্লেখ করে সচিব বলেন, আমাদের হাতে প্রচুর রিজার্ভ রয়েছে। তবে অতিরিক্ত অর্থ বাজারে ছাড়ার পর যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে না যায় সে জন্য সমপরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখা হবে।

এই ঋণ নিতে বেসরকারি খাতের সুদের হার কত হবে— প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এই টাকা-বন্ডে যারা বিনিয়োগ করবেন তাদের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ হবে। এর ওপর সার্ভিস চার্জ ধরে সহনীয় সুদেই বেসরকারি খাতকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আইএফসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে যৌথভাবে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলেও জানান সচিব।

গত বছর এপ্রিলে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের বসন্তকালীন আলোচনায় আসে ১ বিলিয়ন ডলারের টাকা-বন্ড ইস্যুর বিষয়টি। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন আইএফসির প্রধান নির্বাহী জিন ইয়ং কাইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও বন্ড ইস্যু করবে আইএফসি।

ওই সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যে কেউ এ টাকা-বন্ড কিনতে পারবেন। এই বন্ড প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় হবে। বিদেশের ব্যাংকে টাকা রাখলে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। কিন্তু টাকা-বন্ডে চার থেকে পাঁচ শতাংশ সুদ থাকবে। প্রবাসীরা সঞ্চয় ব্যাংকে না রেখে টাকা-বন্ডে বিনিয়োগ করলে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যরাও এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে, সংস্থাটির প্রস্তাবের প্রায় ৬ মাস পর সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, আইএফসির মাধ্যমে বিশ্ববাজার থেকে ১ বিলিয়ন ডলার তোলার। এরপর গত অক্টোবরে পেরুর রাজধানী লিমায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ১ বিলিয়ন ডলারের টাকা-বন্ড ছাড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এখন আইএফসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় বসে একটি কাঠামো ঠিক করে দ্রুত এই বন্ড ছাড়া হবে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এলকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *