পরিচালন মুনাফায় ব্যর্থ স্টক এক্সচেঞ্জ

dse cseনিজস্ব প্রতিবেদক :

শেয়ারবাজারের টানা ও বড় ধরনের দরপতন আবারও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাহাকার তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের ফেলেছে দুশ্চিন্তায়। গত কয়েক দিনের দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে তাঁদের কেউই এ বিষয়ে নাম উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত নয় কার্যদিবসেই শুধু সূচক কমেছে প্রায় ২৬২ পয়েন্ট। গত ১৩ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে। আর গতকাল সোমবার তা কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৭০৮ পয়েন্টে। একই সঙ্গে লেনদেনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উল্লিখিত নয় কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কমে গেছে।

একই সময়ে অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৮৩৯ পয়েন্ট। ১৩ জানুয়ারি সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ১৫ হাজার ২৬৩ পয়েন্টে। আর গতকাল সোমবার তা নেমে এসেছে ১৪ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে।

ডিএসইর এক হিসাব অনুযায়ী, লেনদেনের আয় থেকে স্টক এক্সচেঞ্জটিকে না লাভ, না লোকসানের পর্যায়ে রাখতে হলে প্রতিদিন বাজারে গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার লেনদেন হতে হয়। অন্যথায় এটির পরিচালনগত লোকসান হয়।

সেখানে চলতি বছরের ১৭ কার্যদিবস (গতকাল সোমবারসহ) শেষে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৯ কোটি টাকা। এ ১৭ দিনে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

ডিএসইর আয়ের যতগুলো খাত রয়েছে, তার মধ্যে বড় একটি হলো লেনদেন বাবদ কমিশন আয়। অন্যান্য আয়ের মধ্যে বড় আরেকটি উৎস হলো স্টক এক্সচেঞ্জটির মেয়াদি আমানত।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী গনমাধ্যমকে বলেন, লেনদেনের যে অবস্থা তাতে বেশ বড় অঙ্কের পরিচালনগত লোকসান দিয়ে চলছে ডিএসই। তবে অন্যান্য খাতের নির্দিষ্ট কিছু আয় আছে বলে স্টক এক্সচেঞ্জটি মুনাফা টিকিয়ে রেখেছে।

নিজের প্রতিষ্ঠান শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, ‘পরিচালন মুনাফা করতে হলে আমার প্রতিষ্ঠানকে প্রতিদিন গড়ে আট কোটি টাকার লেনদেন করতে হয়। সেখানে বর্তমানে কোনোভাবেই চার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) লেনদেন বাবদ আয় থেকে পরিচালন মুনাফা করতে হলে দৈনিক গড়ে ৮০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতে হয়। চলতি বছরের ১৭ কার্যদিবসে সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা। যার ভিত্তিতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ/এলকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *