ফাইলবন্দী পুনঃঅর্থায়নের দ্বিতীয় কিস্তি

refinanceনিজস্ব প্রতিবেদক, ১ অক্টোবর :
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইলে বন্দী হয়ে আছে পুনঃঅর্থায়নের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ। সংস্থাটির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করা হচ্ছে না। প্রথম কিস্তি বণ্টনের দুই মাস হতে চললেও মিলছে না দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ। পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের অনুমোদন নিয়ে কালক্ষেপণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, গত জুলাই মাসের প্রথম দিকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা বণ্টন শেষ হয়েছে। পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১০ হাজার ৫৬৮ জন বিনিয়োগকারীদের মাঝে এ অর্থ বণ্টন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক হাউজ থেকে প্রথম কিস্তির সুদ প্রদান করা হয়েছে। প্রথম কিস্তি বণ্টনের পরপরই দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও বিগত দুই মাসেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়নি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এবং পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বণ্টন তদারকি কমিটির আহ্বয়ক মো. সাইফুর রহমান জানান, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আমরা বৈঠক করেছি। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া গেলে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে না।

জানা যায়, গত সোমবার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বণ্টন তদারকি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কার্যত কোনো ফল মেলেনি। গত বছরের ১৯ আগস্ট পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি সরবরাহ এবং যাবতীয় দলিলাদি সম্পাদন করতে আইসিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

২২ আগস্ট অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২৬ আগস্ট পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর পুনঃঅর্থায়ন তহবিল অর্থ ব্যবহার তদারক করতে কমিটি গঠন হয়। পরবর্তীতে পুনঃঅর্থায়নের প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের আবেদনের সময় ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করে আইসিবি।

একের পর নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে আবেদনের সময় বাড়ানোর অজুহাতে কালক্ষেপণ করা হয়। এক্ষেত্রে ৫ দফায় সময় বাড়ানো হয়। অতঃপর দীর্ঘ ভোগান্তির পর প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় করে আইসিবি। তাই দ্বিতীয় কিস্তির ক্ষেত্রেও এমন কালক্ষেপণের আশঙ্কা করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এ হাফিজ জানান, ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। পদক্ষেপ নেয়ার দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু এ অর্থ বিনিয়োগকারী পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যাবে। তবে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নীতিনির্ধারণী মহল চাইলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই কাজটি করতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *