রেল বাজেটে হতাশ ভারতের শেয়ারবাজার

sensexস্টকমার্কেট ডেস্ক :

রেল বাজেটে তেমন কিছু না-থাকার হতাশা। এবং শনিবার পেশ হতে চলা কেন্দ্রীয় বাজেটে কী থাকতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয়। মূলত এই জোড়া চাপের জাঁতাকলেই বৃহস্পতিবার এক ধাক্কায় সেনসেক্স পড়ে গেল ২৬১.৩৪ পয়েন্ট। বাজার বন্ধের সময়ে দাঁড়াল ২৮,৭৪৬.৬৫ অঙ্কে।

এ দিন অবশ্য টাকার দাম ফের বেড়েছে। ডলারে লেনদেনের সাপেক্ষে তা বাড়ে ২২ পয়সা। দিনের শেষে এক ডলার থিতু হয় ৬১.৭৫ টাকায়। এই নিয়ে টানা তিন দিন বাড়ল টাকা।

সূচকের পতনের কারণে হিসেবে অনেকে এ দিন রেল বাজেটকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ঠিকই। তবে শুধু এর জন্য বাজার পড়েছে বলে মানতে নারাজ বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ। তাঁদের ধারণা, আগামী কাল কেন্দ্রীয় বাজেটের কথা মাথায় রেখেই লগ্নিকারীরা এ দিন হাতে থাকা শেয়ারের থলে অনেকটা হাল্কা করেছেন। কারণ, এই বাজেট কতটা কী মনের মতো হয়, তা দেখে নিয়ে তবেই তাঁরা আবার লগ্নির পথ ধরতে চান।

বৃহস্পতিবার ছিল ডেরিভেটিভ লেনদেনে শেয়ার হস্তান্তরের দিন। এটাও পতনের অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারণা। প্রবীণ বাজার বিশেষজ্ঞ অজিত দে বলেন, “বেশ কয়েক দিন ধরেই বাজার পড়ছিল। তার উপর ডেরিভেটিভ লেনদেনে শেয়ার হস্তান্তরের দিন এসে যাওয়ায় লগ্নিকারীদের মধ্যে বিক্রির ধুম পড়ে। সূচকের পতনে ওই বিষয়টি ভাল রকম ইন্ধন জুগিয়েছে।”

অবশ্য রেল বাজেট খারপ হয়েছে বলে মানতে নারাজ ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন সভাপতি এবং স্টুয়ার্ট সিকিউরিটিজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমল পারেখ। তিনি বলেন, “যাঁরা বলছেন, রেল বাজেট ভাল হয়নি, আমি তাঁদের সঙ্গে একমত নই। বাজেটে আপাতদৃষ্টিতে চমক দেওয়ার মতো কিছু না-থাকতে পারে। কিন্তু ভাল করে খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, দীর্ঘ মেয়াদে এই বাজেটে রেলের উন্নতির জন্য অনেক পরিকল্পনার কথাই বলা হয়েছে।” তাঁরও অভিমত, এ দিন শেয়ার বাজারের পতন পুরোপুরি রেল বাজেটের ফলে হয়নি। তিনি বলেন, “প্রথমত বাজার গত কয়েক দিন ধরেই পড়ছে। তার উপর সাধারণ বাজেটে কী থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়ছে। তাই বাজেটের আগে সকলেই শেয়ার বেচে হাত খালি করে রাখতে চাইছেন। তাঁদের পরিকল্পনা, বাজেট দেখে ফের লগ্নি শুরু করা।”

অবশ্য শেয়ার বাজার মহলের একটা অংশ কিন্তু দিশাহীন রেল বাজটকেই সূচকের পতনের জন্য দায়ী করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এ দিনের বাজেটে রেল পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর উন্নতির জন্য লগ্নির ব্যাপারে অনেক বড় বড় পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেগুলি কী ভাবে রূপায়িত হবে, তার রূপরেখা স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। তা ছাড়া রেলের যে ২৬ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ আছে, তা শোধ নিয়েও কোনও উল্লেখ নেই। প্রধানত এই সব কারণেই এটি খুশি করতে পারেনি শেয়ার বাজারকে।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/টি/এএআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *