শিল্পোদ্যোগ সূচকে নিচের সারিতে বাংলাদেশ

স্টকমার্কেটবিডি ডেস্ক :

বিশ্বে শিল্পোদ্যোগের জন্য সেরা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। ২০২১ সালের এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ইনডেক্সে (শিল্পোদ্যোগ সূচকে) অবস্থান ১০০ দেশের মধ্যে ৮৪তম। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সূচকে পাকিস্তানের (৯৯তম) তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ভারতের (৯ম) চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্বে শিল্পোদ্যোগের জন্য সেরা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। ২০২১ সালের এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ইনডেক্সে (শিল্পোদ্যোগ সূচকে) অবস্থান ১০০ দেশের মধ্যে ৮৪তম। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সূচকে পাকিস্তানের (৯৯তম) তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও ভারতের (৯ম) চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের ‘বেস্ট কান্ট্রি ফর এন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশিত হয়।

সূচকে এমন ১০০টি দেশের অর্থনীতি নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট দেশজ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ। ছয়টি মূল সূচকের ওপর এই সমীক্ষা করা হয়: উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, শ্রম দক্ষতা, অবকাঠামো, মূলধন এবং মুক্ত ব্যবসা ব্যবস্থা। প্রতিটি সূচককে আবার ১ থেকে ১০০-এর মধ্যে সাজানো হয়েছে। এই সূচকগুলোর মধ্যে আবার কিছু উপসূচকও আছে।

এতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের স্কোর ১০০-তে ১২ দশমিক ৯৯। এর মধ্যে উদ্ভাবনে ৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট, প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় ৪ দশমিক ৮৯, শ্রম দক্ষতায় ২৩ দশমিক ০৫, অবকাঠামোয় ২০ দশমিক ৪৭, মূলধনে ৯৩ দশমিক ৬২ এবং মুক্ত ব্যবসায় ব্যবস্থায় ১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট।

তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ৪২ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট। বিশ্বের সর্বাধিক উদ্যোক্তা দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি স্বীকৃত পেয়েছে।

এ ছাড়া জার্মানি ৪১ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়, যুক্তরাজ্যের অবস্থান তৃতীয় (স্কোর ৩৫ দশমিক ৮), চতুর্থ ইসরাইল (৩৪ দশমিক ২৫), পঞ্চম সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩১ দশমিক শূন্য ১), ষষ্ঠ পোল্যান্ড (২৯ দশমিক ৭৫), সপ্তম স্পেন (২৯ দশমিক শূন্য ১) অষ্টম সুইডেন (২৮ দশমিক ১৬), নবম ভারত (২৫ দশমিক ৪৭) এবং দশম ফ্রান্স (২৫ দশমিক ৩৪)। দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ তালিকায় স্থান পেয়েছে। প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকার অবস্থান ৮০তম (স্কোর ১৩ দশমিক ১৮)। আর ১২ দশমিক ২৪ পয়েন্ট স্কোর নিয়ে ৯৯তম অবস্থানে পাকিস্তান।

গ্লোবাল বিজনেস পলিসি ইনস্টিটিউটের (জিবিপিআই) অংশীদারিত্বে সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের এই সূচক পরিচালিত হয় ১ লাখ ২০ হাজার অংশগ্রহণকারীর বিশদ জরিপের ভিত্তিতে। জরিপটি হয়েছিল গত বছরের ১৯ অক্টোবর থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। সূচক তৈরিতে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থনীতি বিশ্লেকরা বলছেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা হলো আর্থিক সংস্থানের ঘাটতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ব্যবসা শুরু করার জন্য তারা আত্মীয়দের ওপর অথবা নিজেদের সঞ্চয়ের ওপরই নির্ভর করছে। দেশে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য করের কাঠামোও যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, ফলে ব্যবসায় লাভ না হলেও কর দিয়ে যেতে হয় তাদের।

অন্যান্য দেশে বাধ্যতামূলকভাবেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) থেকে কর সংগ্রহ করা হয়। তা ছাড়া নতুন উদ্ভাবন ও দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে দেশে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিল্পমুখী দক্ষতা শেখানো হয় না। এদিকে গ্লোবাল বিজনেস অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ লিগের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ডুয়িং বিজনেস ২০২০ সমীক্ষায় এ দেশের অবস্থান ১৭৬ থেকে ১৬৮-তে উঠে এসেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে, গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, গ্লোবাল এন্ট্রাপ্রেনারশিপ ইনডেক্স ২০১৯ প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩২তম অবস্থানে। এ ছাড়াও গত বছর নভেম্বরে নারী উদ্যোক্তাদের মাস্টারকার্ড ইনডেক্স ২০২০-এ ৫৮টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তলানিতে।
সূত্র : যুগান্তর

স্টকমার্কেটবিডি.কম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *