শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্তে ডিএসই

dseনিজস্ব প্রতিবেদক :

আয় বাড়লেও শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। স্টক এক্সচেঞ্জটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একাধিক পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে সংস্থাটির এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০১৪ সালের জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন শেয়ারধারীদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০১৪ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে ডিএসইর শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ১০ পয়সা বেড়েছে। বছর শেষে সংস্থাটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৪ পয়সায়। ২০১৩ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬৪ পয়সা।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী গনমাধ্যমকে বলেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তিটাকে আরও শক্তিশালী করতে এ বছর লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

এর ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বছর শেষে যে আয় হয়েছে তার একটি অংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হলে তাতে এটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভি (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) কমে যাবে। যেহেতু এখনো শেয়ারধারীদের ৬০ শতাংশ শেয়ার অবিক্রীত রয়েছে, এ অবস্থায় এনএভি কমলেও তা ভবিষ্যতে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আর্থিক ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করা বা ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ডিএসই একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত হয়।

ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর ডিএসইর পরিশোধিত মূলধন ঠিক করা হয় ১ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০টি শেয়ারে বিভক্ত। মোট শেয়ারের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা ৭২ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার ৬০০টি শেয়ার ২৫০ জন শেয়ারধারীর মধ্যে সমান সংখ্যায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০ শতাংশ বা ১০৮ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০টি শেয়ার কৌশলগত, সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রির জন্য ব্লক অ্যাকাউন্ট বা আলাদা হিসাবে রাখা হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ২০১৩-১৪ সালের আর্থিক বছরে মোট ১৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে; যার বিপরীতে খরচ করেছে ৫৪ কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের যোগ-বিয়োগ শেষে প্রকৃত আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এএআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *