শেয়ারবাজার চাঙা করতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ এমসিসিআই

mccনিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিপর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা ও সর্বোচ্চ কর হার পরিবর্তন না করায় এবং শেয়ারবাজার চাঙা করতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে এমসিসিআই। তবে মূসক আইন বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার।

সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায়। গতকাল শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার বলেছে, রাজস্ব আদায়ে বৃহৎ করদাতার ওপর চাপ না দিয়ে নতুন কর আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। সরকারের উচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া। এ ছাড়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী কর কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা প্রয়োজন।
বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশে গ্যাস সরবরাহে সংকট চলছে। তবে সেটি দূর করতে বাজেটে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে এমসিসিআই হতাশা ব্যক্ত করেছে। অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের যে ক্ষতি, তা নিরসনে গ্যাসের ন্যূনতম চার্জ দেওয়ার বিধান বাতিলের সুপারিশ করেছে চেম্বার।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এমসিসিআই ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ সীমিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

বাজেটে মূল্য সংযোজন কর বা মূসকসহ পণ্য ও সেবার মূল্য থেকে উৎসে আয়কর কর্তনের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে শঙ্কা প্রকাশ করেছে এমসিসিআই। তারা বলেছে, এটি আয়কর ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়া মূসক আপিলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ হারে জমাদানের প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছে এমসিসিআই।

প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২১ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা সন্তোষজনক বলেই মনে করছে এমসিসিআই। তবে তারা মনে করে, উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এডিপিতে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন। এডিপির অর্থ যেন দক্ষতার সঙ্গে যথাযথভাবে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছে এমসিসিআই।

বাজেটে এডিপির ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দ করায় ‘আশার সঞ্চার’ হিসেবে অভিহিত করেছে এমসিসিআই। তারা আশা প্রকাশ করে বলেছে, এই বরাদ্দের অধিকাংশই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ব্যয় হবে। অবশ্য এমসিসিআই মনে করে, এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ দেশের চাহিদা ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় কম।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/এম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *