সরকারকে বিদ্যুৎ দিয়ে সহযোগিতা করবে ইউনাইটেড

unitedনিজস্ব প্রতিবেদক :

সারাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতায়নে বৃহৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেড। ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল) ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল)সহ নিজেদের ৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট। শীতকালীন চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন ৬২০০ থেকে ৬৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এ যাবৎকালে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ (জুলাই-২০১৪) উৎপাদিত হয়।

১৯৯৭ সালে দেশে বেসরকারি খাতে প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্র (আইপিপি) খুলনা পাওয়ার যাত্রা শুরু করে, যার অন্যতম উদ্যোক্তা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেড। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৮টি প্ল্যান্টে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছে। এছাড়াও আরও ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এর কাজ শেষ হলে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে ৭০০ মেগাওয়াট হবে।

অন্যদিকে, ২০১০ সালে প্রণীত পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ইউপিজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দীন হাসান রশিদ বলেন, দেশে বিদ্যমান বিদ্যুত ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করায় এখাতে অবদান রাখার বড় সুযোগ তৈরি হয়। ইউনাইটেড গ্রুপ এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো গড়ে তুলেছে। সহযোগিতা পেলে সরকারের পাশে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে ইউনাইটেড।

সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারী খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহী করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত ৭৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অনুমোদিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ১১ হাজার ৫০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

তিনি জানান, দেশে ৪৬৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৭টি এবং বেসরকারি খাতে ২৭০৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ৩৬৩৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের উৎসাহ, অর্থায়নের সহজীকরণ ও মুনাফা নিশ্চতকরণ- এ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিলে বেসরকারী খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর সরকার এটা করতে পারলে নিশ্চতভাবে আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

স্টকমার্কেটবিডি.কম/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *