সিএসই ইন্টারনেট ট্রেড ফেয়ার : বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

cseনিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের শিল্পায়নের বিকাশে শেয়ারবাজারের সম্পৃক্ততা জরুরি। কেননা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ ব্যাংকঋণ নিয়ে দেশের শিল্পায়ন সম্ভব নয়। আর দেশের শেয়ারবাজার গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারের যে অবদান থাকা প্রয়োজন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তা থাকবে। এ ছাড়া শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রয়োজনে বিভিন্ন আইনেরও সংস্কার করা হবে।

গতকাল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ইন্টারনেট ট্রেড ফেয়ারের (আইটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নীতি নির্ধারণী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।

এ সময় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেন বলেন, ‘অর্থনীতির এক সন্ধিক্ষণে সিএসই এ মেলার আয়োজন করেছে। যার মাধ্যমে তারা নেক্সট জেনারেশন সার্ভিস দেবে। ২০১০ সালে এ ব্যবস্থা চালু করা হলেও তা জনপ্রিয়তা পায়নি। তখন বাজার পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। তবে এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রেডিংয়ের আগ্রহ বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত দেড় দুই বছর থেকে শেয়ারবাজার অনেক স্থিতিশীল। কারণ এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। ফলে শেয়ারবাজার বেগবান হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা এ অবস্থা থেকে আরো বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। একটি দেশের অর্থনীতিতে শেয়ারবাজারে যে অবদান থাকা প্রয়োজন, ভবিষ্যতে আমাদের তা থাকবে।’
বিএসইসির চেয়ারম্যান জানান, ‘আমরা মেরিটের ভিত্তিতে আইপিও অনুমোদন দিয়ে থাকি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি এবং এখনো করছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশের শিল্পায়নে শেয়ারবাজারে র্ভমিূকা থাকা প্রয়োজন। কারণ ব্যাংক থেকে ১৭-১৮ শতাংশ হারে ঋণ নিয়ে দেশের শিল্পায়ন সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে পুঁজির যে অভাব তা পূরণে শেয়ারবাজার ভ‚মিকা পালন করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘মেলায় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে ফিডব্যাক পাওয়া যাবে, তা আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরবো। প্রয়োজনে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিভিন্ন আইনের সংস্কার করা হবে। তবে এ মেলায় আমরা বিনিয়োগকারীদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। যাতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার সম্পর্কে ছোট ছোট বিষয়গুলো জানতে পারে।’

সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাজিদ হুসেইন বলেন, ‘আমরা ১৯৯৭ সালে ইন্টারনেট ট্রেডিং চালু করেছিলাম। ২০১০ সালে এটাকে আরো আপডেট করা হয়।
তবে সে সময় ইন্টারনেটের তেমন প্রসার না থাকায় এ ব্যবস্থাটি বিস্তার লাভ করেনি। বর্তমান সরকারের আমলে ইন্টারনেটের প্রসার হওয়ায় আমরা এ মেলার আয়োজন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

ফলে মানুষ উপস্থিত হয়ে লেনদেন করতে পারে না। আর এ সমস্যাকে মাথায় রেখে আমরা ইন্টারনেট লেনদেনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। তবে মনে রাখতে হবে ইন্টারনেট লেনদেনের একটি মাধ্যম মাত্র। ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে লেনদেনে যেসব আইন মেনে চলা হয়, এখানেও তা মানা হবে। ফলে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন।’

সাজিদ হুসেইন বলেন, ‘আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি। কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি এখন অধিকাংশ মানুষের কাছে মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, ট্যাব ও ল্যাপটপ রয়েছে। তাই এখন মানুষ শুনে, বুঝে ও দেখে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

আর এতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বাড়বে। কাজেই বাজারে শেয়ারের চাহিদা বাড়াতে এবং চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন আইপিও অনুমোদন দিতে হবে।’
স্টকমার্কেটবিডি.কম/এইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *